জীবদ্দশায় পপসম্রাট অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন
দরিদ্র শিশুদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাকে অনুদানও দিতেন তিনি
এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচুর অর্থসহায়তা দিতে এতটুকু কার্পণ্য করেননি মাইকেল জ্যাকসন
প্রয়াত এই পপতারকার বড় ছেলে প্রিন্স মাইকেল বাবার পদাঙ্কই অনুসরণ করা শুরু করেছে
এই ১৩ বছর বয়সেই সে দুস্থ শিশুদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে
প্রিন্স মাইকেল গত সপ্তাহে সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কিছু কাজ করেছে
এর মধ্যে ছিল পেরুর অসহায় শিশুদের জন্য ৫০০টি খাবারের বাক্স তৈরির কাজ
ওয়েবসাইট
এসিড মামলায় বিচারপতির ছেলে গ্রেপ্তার
এসিড আইনে দায়ের করা মামলায় গুলশান থানার পুলিশ গতকাল বুধবার সকালে সাফায়েত আহমেদ চৌধুরী ২৮ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে
গ্রেপ্তারের পরপরই ওই যুবকের মা হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আইনজীবী নিয়ে হাজির হন
পুলিশ যুবকটিকে আদালতে সোপর্দ করে
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামাল উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান বিচারপতির ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক আসাদুজ্জামানের ছেলে সাবরি-ই-জামানকে লক্ষ্য করে এসিড ছোড়ার ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন
গত ৫ আগস্ট আসাদুজ্জামান গুলশান থানায় মামলাটি করেন
পুলিশ ওই মামলায় বিচারপতির সরকারি গাড়িচালক শাহীন ও জাহিদ নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করে
২৬ সেপ্টেম্বর তাঁরা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন সাফায়েতের নির্দেশে তাঁরা এসিড ছোড়েন
সাফায়েতের বাবা সেলিম আহমেদ ব্যবসায়ী
সাফায়েত কলাবাগানের লন্ডন কলেজ অব ফেলো স্টাডিজে পড়াশোনা করেন
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান গতকাল বেলা ১১টার দিকে গুলশান-১ নম্বরের একটি আসবাবের দোকানে সাফায়েত দাঁড়িয়ে ছিলেন
সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে
গ্রেপ্তারের পর তাঁর মা কয়েকজন আইনজীবী নিয়ে থানায় যান
তিনি ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসিকে বলেন
কিন্তু পুলিশ এভাবে ছাড়তে অপারগতা জানালে তিনি চলে যান
সাফায়েতের মা থানায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাননি
পুলিশ জানায় আসাদুজ্জামান মামলায় উল্লেখ করেন তাঁর ছেলে সাবরি-ই-জামান এরিকসন বাংলাদেশের ফ্রন্ট অফিসে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত
তাঁর সাবরি কার্যালয়টি গুলশানের ৩৭ নম্বর সড়কের ৯৯ নম্বর বাড়িতে
গত ৫ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে সাবরি তাঁর কার্যালয়ের নিচে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে এসিড সাবরির দিকে ছুড়ে মারেন
এতে সাবরির মুখ ও শরীরের বাঁ অংশ ঝলসে যায়
তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
পুলিশ জানায় সাবরির বাবার মামলা দায়েরের পর তারা ফোন নম্বর ধরে শনাক্ত করে বিচারপতির সরকারি গাড়িচালক শাহীন ও তাঁর বন্ধু জাহিদকে গ্রেপ্তার করে
এ দুজন জিজ্ঞাসাবাদে সাফায়েতের নাম বলেন
এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর দুজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন
জবানবন্দিতে তাঁরা উল্লেখ করেন সাফায়েতের নির্দেশেই তাঁরা সাবরির ওপর এসিড ছোড়েন
পরে আরও কিছু তদন্ত করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাফায়েতকে ধরতে পুলিশ অভিযানে নামে
গুলশান থানার মামলায় অভিযোগ করা হয় মেহরিন নামের এক তরুণীর সঙ্গে দুই বছর ধরে টেলিফোনে কথা চলে সাবরির
ফোনে মেহরিন নিজেকে শিল্পপতির মেয়ে পরিচয় দেন
তবে তাঁদের মধ্যে কখনো দেখা হয়নি
পরে একসময় সাবরি জানতে পারেন মেহরিন মিথ্যা কথা বলেছেন
কিছুদিন পর সাবরি মেহরিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ একবারে বন্ধ করে দেন
কিন্তু মেহরিন নানাভাবে সাবরিকে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন
একপর্যায়ে মেহরিন তাঁকে কাজটা ভালো হচ্ছে না বলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন
পুলিশ জানিয়েছে এ মামলার তদন্তে তারা জানতে পারে সাফায়েত ও সাবরি একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন
সাবরির পর ওই তরুণীর সঙ্গে সাফায়েতেরও সম্পর্ক গড়ে ওঠে
মেহরিন সাফায়েতের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখাও করেন
পুলিশ আরও জানায় মেয়েটি একপর্যায়ে সাফায়েতকে তাঁর বন্ধু সাবরিকে শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেন
এরপর সাফায়েত তাঁর মায়ের গাড়িচালক শাহীনকে ১০ হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে সাবরিকে এসিড ছুড়তে বলেন
শাহীন এ জন্য বঙ্গবাজারের পাশের একটি মোবাইল ফোনসেট মেরামতের মেকানিক জাহিদকে সঙ্গে নেন
তাঁরা পুরান ঢাকা থেকে এসিড এনে সাবরির কার্যালয়ের একটু দূরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন
সাবরি কার্যালয় থেকে বের হওয়ামাত্র তাঁরা তাঁর গায়ে এসিড ছুড়ে পালিয়ে যান
চিন্তায় বিশ্বকাপ দুশ্চিন্তায় তামিম
হাতুড়ি-গাঁইতির ঠোকাঠুকি বৈদ্যুতিক যন্ত্রের চিৎকার লোহা-সুরকির সংঘাত শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চৌহদ্দিতে ঢুকলে ইদানীং মনে হয় কোনো এক মহাযজ্ঞের মধ্যে এসে পড়েছি
কেউ গর্ত খুঁড়ছে কেউ গর্ত বন্ধ করছে
কোথাও দেয়াল ভাঙা হচ্ছে কোথাও তোলা হচ্ছে
সব মিলিয়ে এই মহাযজ্ঞ চোখে আঙুল দিয়ে বলে উৎসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ—বিশ্বকাপ উৎসব
বিশ্বকাপ কাছে আসতে এখনো দেরি আছে
কিন্তু গত পরশু রাতে ঢাকায় বিশ্বকাপের হাওয়া বয়ে নিয়ে এসেছে নিউজিল্যান্ড দল
বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে বোর্ড কর্মকর্তা—সবাই এই সিরিজ থেকেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির শুরু হচ্ছে বলে মনে করছেন
যুক্তিও আছে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের আর বিদেশ সফর নেই
নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশের মাটিতে খেলেই দেশের মাটির বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হবে বাংলাদেশ
প্রস্তুতিতে সেই বিশ্বকাপের বিশেষ সুবাসটা সবাই পাচ্ছে
সেটি কেমন সবচেয়ে ভালো বললেন ইমরুল কায়েস প্রতিদিন দুই সেশনে অনুশীলন করছি
ম্যাচের মতো লাঞ্চ ব্রেকের পর আবার অনুশীলন
টানা এত লম্বা অনুশীলন এর আগে কখনো করিনি
ফলে বিশেষ কিছু তো মনে হচ্ছেই
মুশফিকুর রহিমও ইমরুলের সুরে বললেন এখন আমরা ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনুশীলন করছি
ব্যাটিং বোলিং কিপিং ফিল্ডিং—প্রতিটি বিভাগে আলাদা অনুশীলন হচ্ছে
আবার ম্যাচ কন্ডিশনে অনুশীলনও হচ্ছে
এমন জমজমাট অনুশীলন সত্যিই আগে কখনো হয়নি
আসলেই বিশ্বকাপ এসে গেছে মনে হচ্ছে
তাহলে খেলোয়াড়দের মনেও বিশ্বকাপ চলে এসেছে না এই জায়গাতেই আপত্তি করলেন উপমহাদেশীয় কন্ডিশনে বড় ভরসা আবদুর রাজ্জাক মানছি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে
মনের কোণে সে ব্যাপারটা আছেও
কিন্তু মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপ এখনো অনেক দূরে
এর আগে প্রতিটি ম্যাচই আলাদা আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ
আমার মনে হয় এভাবে ভাবাই ভালো
রাজ্জাকের সঙ্গে এখানে দারুণ মিল তাঁর অধিনায়কেরও
মাশরাফি বিন মুর্তজা বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে হেসে বললেন বিশ্বকাপের একটা আমেজ তো থাকবেই
কিন্তু এখনই বিশ্বকাপে মজে গেলে তো চলবে না
আমাদের এখন ভাবনা শুধু নিউজিল্যান্ডকে নিয়েই
আমি সেটা নিয়েই ভাবছি
আর সেটা ভাবতে গিয়েই খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে
কেন দেশের মাটিতে খেলা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ অভিজ্ঞতাও একেবারে জঘন্য নয়
তাহলে এত দুশ্চিন্তার কারণ কী কারণ তামিম নেই—উত্তরটা দিতে গিয়ে স্বভাববিরুদ্ধভাবে গম্ভীর হয়ে গেলেন মাশরাফি
হওয়ারই কথা
গত কিছুদিন তামিমের ব্যাট এমনই দাপট দেখিয়েছে যে তাঁর শূন্যতা পূরণ করাটা হয়ে উঠেছে প্রায় অসম্ভব
এ কারণেই নিউজিল্যান্ড সিরিজের আলোচনায় বাংলাদেশের সব ক্রিকেটারের একই আফসোস তামিম থাকছে না
তামিমের বদলি হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া শাহরিয়ার নাফীস পর্যন্ত আফসোসের সুরে বললেন নিকট অতীতে তামিমের যে পারফরম্যান্স তাতে ওকে হারানোটা একটা বিরাট বিপর্যয়
একই কথা বললেন মুশফিকও
তাহলে কি সিরিজজুড়েই বাংলাদেশ তামিমকে নিয়ে হা-হুতাশ করবে অন্তত মুখে কথাটার প্রতিবাদ করলেন মাশরাফি তামিমের জন্য আমাদের আফসোস আছে দুঃখ আছে
তাই বলে আমরা তো আগেই পিছিয়ে পড়ছি ব্যাপারটা তা না
তামিমের বদলে নাফীস এসেছে দলে
নাফীসের তো নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই
ওর ওপর আমরা নির্ভর করছি
নাফীস অবশ্য এই নির্ভরতার জন্য বাড়তি কোনো চাপ নিতে রাজি নন ব্যাপারটা এমন নয় যে তামিম যা করত সেই পুরো কাজটা আমাকে করতে হবে
বাংলাদেশ দলে এখন অনেক ব্যাটসম্যানই আছে যারা অনেক ভালো পারফরম্যান্স করতে পারে
আমি আমার খেলাটাই খেলতে চাই
শাহরিয়ার নাফীস নিজের খেলাটা খেললে কী হয় তা ব্রেট লি-শেন ওয়ার্নরাও জানেন!
আট মাস পর পপির নতুন ছবি
